আওয়ামী লীগ আমলের সব শিক্ষক-কর্মকর্তার নিয়োগ পর্যালোচনা করবে ঢাবি
২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে দেওয়া সব নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ সময়ের নিয়োগগুলো কোন প্রক্রিয়ায় এবং কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিন্ডিকেট সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে কোনো নিয়োগে অনিয়ম, ত্রুটি বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নিয়োগ পর্যালোচনার জন্য উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা এ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সিন্ডিকেট সভায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষকদের ভূমিকা পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে নিয়ে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। টিমটি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ প্ল্যাটফর্মের জমা দেওয়া ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা পর্যালোচনা করবে।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কোনো শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ওই সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি ওঠে। গত ২৭ জুলাই ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে এবং ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থি হিসেবে চিহ্নিত ২৩১ জন শিক্ষকের তালিকা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।
এদিকে, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত হেকেপ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রমও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
হেকেপ প্রকল্পের গবেষণা তহবিল যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদন জমা পড়ার পর তা পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


