সার্ক মহাসচিবের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বৈঠক

আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সার্কের সহায়তা

শিক্ষা
আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সার্কের সহায়তা
৮ আগস্ট ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও দক্ষতাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সহযোগিতা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ লক্ষ্যে সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এ সময় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্কের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন উভয় পক্ষ। পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও আলোচনা হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্র নয়; গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আঞ্চলিক জ্ঞানবিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণানির্ভর ও দক্ষতাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, সার্কভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা, একাডেমিক সেশন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালু করা গেলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বৈঠকে সার্ক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্কার ও মানোন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক সচিবালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

গোলাম সারওয়ার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সার্ক সচিবালয়ের মধ্যে ভবিষ্যতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর, যৌথ গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সার্কের ভূমিকার বিষয়টিও উঠে আসে। আলোচনায় সার্ক প্রতিষ্ঠার পেছনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ ও ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়।