সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত ৮, হাসপাতালে কয়েকজন

জাতীয়
সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত ৮, হাসপাতালে কয়েকজন
১৪ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতরে হাউসকিপিংয়ের কাজ চলার সময় এ ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) জুনায়েত কাউছার জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কাজ চলার সময় হঠাৎ জাহাজের ভেতর থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

বিস্ফোরণ নয়, গ্যাস লিক

ঘটনাটি নিয়ে শুরুতে বিস্ফোরণের কথা ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইয়ার্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান বলেন, গ্যাস লিক হয়ে বিষক্রিয়ার কারণেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইয়ার্ডে কোনো বিস্ফোরণ হয়নি।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগমও বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন।

ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফের দাবি, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকালে একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংকে লিকেজের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কয়েকজন সেখানে জড়ো হন। তাদের মধ্যেও অনেকে গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

তদন্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান জানিয়েছেন, অন্তত ১০ জন অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

গ্যাস নির্গমন কীভাবে ঘটল এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং গ্যাসের ধরন শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় ইয়ার্ডে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসছে।