জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ: রায়ের অপেক্ষায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতা

অপরাধ
জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ: রায়ের অপেক্ষায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতা
১৭ আগস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক ও পাল্টা যুক্তি শেষ হয়েছে। ফলে মামলাটি এখন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করতে পারেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউশন মামলায় দাখিল করা অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তাদের দাবি, এর ফলে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। তবে আসামিপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের মক্কেলরা কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না এবং কাউকে হত্যা বা হত্যার নির্দেশ দেননি।

ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার আইনজীবীও তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ না থাকার দাবি করে খালাস চেয়েছেন। তার যুক্তি, জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে সাদ্দাম, ইনান, পরশ ও নিখিলের নাম নেই।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’-এর আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে আসামিদের দায়ের পক্ষে যুক্তি দেন। এর আগে ১২ আগস্ট প্রসিকিউশন সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে যুক্তিতর্ক শেষ করেছিল।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

এখন সব পক্ষের বক্তব্য শেষ হওয়ায় রায়ের নির্দিষ্ট তারিখ না থাকলেও যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে। মামলাটির রায়ের দিকে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনের।