১৭ বছরের জঞ্জাল রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়
স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসকে ভিত্তি তৈরির সময় হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তাঁর দাবি, তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, জনবল সংকট দূর করা এবং চিকিৎসাব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্যখাতের পরিকল্পনা ও গত ছয় মাসের কার্যক্রম তুলে ধরেন সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য ড. এম এ মুহিত। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ উদ্যোগের নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যখাতে জনবল বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক ও এক হাজার নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করতে মোট দেড় লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ডিজিটাল অ্যাপের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মীর মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
উপজেলা পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও জরুরি পরিবহন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন এবং অ্যাপভিত্তিক কেন্দ্রীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল চালুর কাজ এগিয়ে চলছে।
স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম ও দালালচক্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ড. মুহিত। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা টেস্ট বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেট ভাঙতে ডিজিটাইজেশন ও অটোমেশনের ওপর নির্ভর করছে সরকার। চিকিৎসকদের পদায়ন ও হাজিরা ব্যবস্থাপনাতেও ধাপে ধাপে অটোমেশন চালু করা হচ্ছে।
চিকিৎসা শিক্ষা ও দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রেও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নের পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া বিদেশি প্রশিক্ষকদের দেশে এনে চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকদের সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় করে স্বাস্থ্য গবেষণার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদকে সামনে রেখে এমনভাবে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে বর্তমান সিদ্ধান্তগুলো আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরেও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাহিদা পূরণে কার্যকর থাকে।
তাঁর মতে, প্রথম বছরটিকে ভিত্তি তৈরির বছর হিসেবে নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এর পরবর্তী সময়ে এসব সংস্কার ও অবকাঠামোগত উদ্যোগের বাস্তব সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে মূল লক্ষ্য।


