জুলাই অভ্যুত্থান: হাসিনা-কামাল-কাদেরসহ ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আইন ও আদালত
জুলাই অভ্যুত্থান: হাসিনা-কামাল-কাদেরসহ ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। তাদের মধ্যে ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর সর্বশেষ রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২২-এ। সর্বশেষ মামলায় দণ্ডিত সাতজনই পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সাত রায়ে ৬৮ জনের দণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। প্রথম ছয়টি রায়ে ৬১ জনকে বিভিন্ন ধরনের সাজা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পৃথক ব্যক্তি হিসেবে ১৫ জন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের সংখ্যা ছিল ১৬টি, কারণ ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান দুটি পৃথক মামলায় মৃত্যুদণ্ড পান।

সপ্তম মামলায় আরও সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় মোট দণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা ৬৮ এবং পৃথক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে।

যেসব মামলায় দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড

শেখ হাসিনা মামলা: ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

চানঁখারপুল হত্যাকাণ্ড: ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি শাহ আলম মোহাম্মদ আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আরও পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে তিন থেকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আশুলিয়া হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানো: ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও যুবলীগের রনি ভূঁইয়াসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মামলায় আরও কয়েকজনকে যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আবু সাঈদ হত্যা: ৯ এপ্রিল সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়।

রামপুরা-বনশ্রী হত্যাকাণ্ড: ২৮ জুন হাবিবুর রহমান, সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য দুজনকে ২০ বছর ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

হাসানুল হক ইনু মামলা: ৩০ জুন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে দোষী সাব্যস্ত করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচ অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।

ওবায়দুল কাদের মামলা: সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বরের রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

২২ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের মধ্যে ১১ জন রাজনৈতিক নেতা

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২২ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। তারা হলেন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, সাইফুল ইসলাম ও রনি ভূঁইয়া।

অন্য ১১ জনই পুলিশ কর্মকর্তা।

কারাগারে চারজন, পলাতক ১৮

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন আশুলিয়া মামলার আব্দুল মালেক ও মুকুল চোখদার এবং আবু সাঈদ হত্যা মামলার আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায়।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান চানঁখারপুল ও রামপুরা-বনশ্রী—দুই মামলায় পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। তবে একই ব্যক্তি হওয়ায় পৃথক মৃত্যুদণ্ডের রায় দুটি হলেও মোট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির হিসাব করার সময় তাকে একবারই গণনা করা হয়েছে।