বৈদেশিক বাণিজ্যে টাকায় লেনদেনের সুযোগ, থাকছে না ডলারের বাধ্যবাধকতা

বৈদেশিক বাণিজ্যে টাকায় লেনদেনের সুযোগ, থাকছে না ডলারের বাধ্যবাধকতা
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডলার বা অন্য কোনো বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াই এখন বাংলাদেশি টাকায় আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এ জন্য বিদেশি ব্যাংকের নামে পরিচালিত নন-রেসিডেন্ট টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআরটিএ) বা ভোস্ট্রো হিসাব ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৈদেশিক বাণিজ্যে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং টাকায় লেনদেনের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

যেভাবে হবে টাকায় নিষ্পত্তি

নতুন ব্যবস্থায় আমদানিকারকের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট ভোস্ট্রো হিসাবে জমা হবে। পরে ওই হিসাব থেকেই বাংলাদেশের রপ্তানিকারকের অনুকূলে অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে আমদানি-রপ্তানির এলসি, চুক্তি ও ইনভয়েস আগের মতোই অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় করতে হবে। এরপর প্রচলিত বিনিময় হার অনুযায়ী ওই অর্থ বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করে লেনদেন নিষ্পত্তি করা যাবে।

রপ্তানি আয়ের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ

টাকায় রপ্তানি আয় গ্রহণকারী রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগও রাখা হয়েছে। এসব অর্থ কাঁচামাল আমদানি, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণ পরিশোধসহ অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা বিভিন্ন দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে।

এ ছাড়া ভোস্ট্রো হিসাবে জমা থাকা অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল এবং ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোস্ট্রো হিসাবে থাকা অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

রেমিট্যান্স জমার নতুন সুযোগ

একই দিনে পৃথক আরেকটি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে এক্সচেঞ্জ হাউস ও আইএমটিওর মাধ্যমে আসা বৈদেশিক মুদ্রার রেমিট্যান্স প্রাইভেট ফরেন কারেন্সি (পিএফসি) ও নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (এনএফসিডি) হিসাবে জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন ব্যবস্থার আওতায় সব ধরনের লেনদেনে গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই বা কেওয়াইসি, অর্থপাচার প্রতিরোধ (এএমএল), সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (সিএফটি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা ও রিপোর্টিংয়ের শর্ত যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।