স্বাধীন সাংবাদিকতা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে: কাদের গনি চৌধুরী

অন্যান্য
স্বাধীন সাংবাদিকতা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে: কাদের গনি চৌধুরী

নিউইয়র্কে আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বাসসের প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণমাধ্যমের কাজ সরকারের তোষামোদ করা নয়, বরং ভুলত্রুটি তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা কোনো সরকারের জন্য হুমকি নয়। বরং গণমাধ্যমের সমালোচনা সরকারকে প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে নিউইয়র্কে আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাকির এইচ চৌধুরীর সৌজন্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন কাভার করতে নিউইয়র্কে যাওয়া বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সম্মানে এ আয়োজন করা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সরকারের ভুল-ত্রুটি শনাক্ত করা এবং সেগুলো নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হতে পারে না।

তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের আনুগত্য কোনো দল, ব্যক্তি বা ক্ষমতার কেন্দ্রের প্রতি নয়; সত্য ও জনগণের প্রতি। গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। গণতন্ত্র অনুপস্থিত থাকলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও বাধাগ্রস্ত হয়।

তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, গণমাধ্যমকে সমাজের বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে অপতথ্য ও গুজবের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছাড়া পত্রিকা প্রকাশের প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএফইউজে মহাসচিব। তিনি বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো পত্রিকা প্রকাশের সুযোগ বন্ধ করা প্রয়োজন। অনেক সংবাদপত্রের যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই। তারা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করে না এবং অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতাও দেওয়া হয় না। গণমাধ্যম খাতের এ ধরনের অনিয়ম দ্রুত দূর করা দরকার।

বিগত সরকারের সময় স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সংকুচিত হয়েছিল দাবি করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছেন। ভবিষ্যতেও এই স্বাধীন পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে প্রকৃত পরিস্থিতি জানানো গণমাধ্যমের দায়িত্ব। অন্যদিকে তোষামোদকারীরা সরকারের সামনে শুধু সাফল্যের চিত্র তুলে ধরবে। তাই গণমাধ্যমকে সরকারের শত্রু হিসেবে বিবেচনা না করে গঠনমূলক অংশীদার হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রফেসর সৈয়দ আজাদ, গাজী মনির আহমেদ, মোতাহার হোসেন, নুর মোহাম্মদ, এটিএম হেলালুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, শাহ আলম, নুর আলম, সিনিয়র সাংবাদিক রেজাউল করিম লাভলু, দীন ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব রশীদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সূত্র: বাসস