আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ: যুক্তরাষ্ট্র

অন্যান্য
আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ: যুক্তরাষ্ট্র

নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন। ছবি: সংগৃহীত

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

নিউইয়র্কে এক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শেখ হাসিনার সঙ্গে কী করা উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেয়নি বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মন্তব্য করতে চায় না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ‘খুবই চমৎকার’ অবস্থায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায় এবং বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টায় পাশে থাকবে।

এক সাংবাদিক আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কে নেবে—এটি নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা সরাসরি বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।’

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা ট্রাম্পের সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে এ সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের স্বল্প সময়ের সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই সাক্ষাতে ছবি তোলার সুযোগও হয়েছিল বলে জানান মার্কিন কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে একটি জটিল অঞ্চলে অবস্থিত এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে সহযোগিতা করতে চায়।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে অন্য কোনো দেশকে বেছে নিতে বলছে না; বরং এসব দেশের জন্য একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে থাকতে চায়।