কঠিন শর্তে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার

কঠিন শর্তে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার
৮ অক্টোবর ২০২৬

বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখতে মোট ৩৩০ কোটি ডলারের অনমনীয় বৈদেশিক ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনমনীয় ঋণ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (এসসিএনসিএল) সভায় এসব ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের একটি নতুন প্রকল্পে ২০ কোটি ডলার এবং জ্বালানি খাতের জরুরি আমদানির জন্য ভূতাপেক্ষ অনুমোদনে ৩১০ কোটি ডলার রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিতরণে এডিবির ২০ কোটি ডলার

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইআরডির কার্যপত্র অনুযায়ী, ঋণের সুদের হার সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে ০ দশমিক ৫ শতাংশ স্প্রেড যোগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ বছর মেয়াদি ঋণটিতে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। এর সঙ্গে ০ দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম ও ০ দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ রয়েছে।

ঋণটির গ্র্যান্ট এলিমেন্ট মাত্র ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২৫ শতাংশের কম হওয়ায় এটিকে অনমনীয় বা কঠিন শর্তের ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা শহরের আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এর আওতায় নতুন ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, আন্ডারগ্রাউন্ড ও ওভারহেড লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। এতে সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের মান ও নিরবচ্ছিন্নতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি আমদানিতে আইটিএফসির ৩১০ কোটি ডলার

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩১০ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদি অনমনীয় ঋণ ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানিতে ২৫০ কোটি ডলার এবং পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানিতে ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আইটিএফসি নিজস্ব উৎস থেকে ৬০ কোটি ডলার দেবে। বাকি ২৫০ কোটি ডলার কো-ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সংস্থান করা হবে।

জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনমনীয় বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এসব ঋণের দায় পরিশোধের ব্যয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং জাতীয় অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে ৩৩০ কোটি ডলারের এই ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।