ইউরোপে জনশক্তি পাঠাতে মাহ্দী আমিনের সাথে ইইউর সাক্ষাৎ

ইউরোপে জনশক্তি পাঠাতে মাহ্দী আমিনের সাথে ইইউর সাক্ষাৎ
১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোতে নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠানো, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধ এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।

বৈঠকে ভিসা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জালিয়াতি রোধ এবং নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ বিভিন্ন আর্থিক নথিতে কিউআর কোড সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এ ছাড়া ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যাতে বৈধ চ্যানেলে সহজে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরি করে ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।

জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারে অভিবাসনের ভূমিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি মেধাপাচার বা ‘ব্রেন ড্রেইন’ কমিয়ে মেধার আন্তর্জাতিক আদান-প্রদান ও দেশে ফিরে দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের পথ সুগম করতে ইইউ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়ন উদ্যোগের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং প্রবাসী কার্ড চালুর পরিকল্পনা সম্পর্কে ইইউ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের সঙ্গে ছিলেন ইইউ পরিচালক হেনরিক নীলসেন ও ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং সংস্থাটির একজন ফার্স্ট কাউন্সেলর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।