২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের ভিসি, বললেন ‘প্রচণ্ড মাথাব্যথা, একটু বিশ্রাম চাই’

অন্যান্য
২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের ভিসি, বললেন ‘প্রচণ্ড মাথাব্যথা, একটু বিশ্রাম চাই’
১৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নিজ কার্যালয়ে এক দিনের বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে এবং এখন কিছুটা বিশ্রাম নিতে চান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চুয়েটের উপাচার্য।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, “সার্বিক অবস্থা আপনারা (সাংবাদিক) সবার কাছ থেকে শোনেন, আমাদের অবস্থা খুব বেশি ভালো না। আমাদের এখানে কেউ ঘুমাতে পারিনি।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও জানান, তাঁর দুই সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রাত ২টার দিকে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করবে। তিনি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও তাঁদের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

গত সোমবার দুপুর ১২টা থেকে শিক্ষার্থীরা চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর আগে নিয়োগের ২১ দিন পর উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম নিজ কার্যালয়ের তালা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে তাঁরা ভবনের মূল ফটকে তালা দেন।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন।

পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও যুক্ত হন। তাঁরা পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং উপাচার্য নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।