প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সচল দেশের অর্থনীতি: রাষ্ট্রপতি

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সচল দেশের অর্থনীতি: রাষ্ট্রপতি
১৪ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণার কারণে বিদেশে যেতে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রবাসীদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া এবং তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাদের দক্ষতা বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা এবং সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, নিরাপদ অভিবাসন, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান এবং দক্ষ জনশক্তি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতারণা বন্ধ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়াকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করা জরুরি।

গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে পরনির্ভরশীল ও আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর অভিযোগ, এ সময়ে দেশ থেকে সম্পদ পাচার করা হয়েছে। ফলে বর্তমান সরকারকে ধ্বংসস্তূপ থেকে কাজ শুরু করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবারও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফল হতে হবে। সরকার সেই লক্ষ্যেই লড়াই করছে এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জয়ী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর কথাও জানান রাষ্ট্রপতি। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ লড়াইয়ে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

এ ছাড়া ‘অভিবাসন দশক’ কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।