বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তির পথে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সরকারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে চুক্তির বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে বড় কোনো বাধা না থাকলেও আলোচনার ভিত্তিতে যৌথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে চুক্তির বিস্তারিত রূপ নির্ধারণ করা হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এর আগে দিনের শুরুতে সিরিকিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, ঋণসংক্রান্ত বিষয় এবং আর্থিক খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছে। এ বিবেচনায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো চুক্তি প্রণয়নের কাজ চলছে।
সকালে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বই সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি আরও জানান, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রধানরা। অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আন্তরিক সমর্থন ও যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে সরকার।


