সামনে লম্বা ছুটি, ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যাবে যেসব দেশে

অন্যান্য
সামনে লম্বা ছুটি, ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যাবে যেসব দেশে
১৯ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেকেই দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে ভিসা পাওয়ার জটিলতা ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার কারণে অনেকের পক্ষেই বিদেশ ভ্রমণ সহজ হয় না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য রয়েছে কিছু সুবিধা। আগাম ভিসা ছাড়াই, অন-অ্যারাইভাল ভিসা কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ই-ভিসার মাধ্যমে বিশ্বের ৩৫টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশিদের।

বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায়ও কিছুটা এগিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, তিন ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৯৭তম। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সূচকটি তৈরি করা হয় একটি দেশের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা সংগ্রহ না করে কতটি গন্তব্যে যেতে পারেন, তার ভিত্তিতে। এ ক্ষেত্রে ভিসামুক্ত প্রবেশ, অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং নির্দিষ্ট ধরনের প্রবেশসুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হয়। সূচকটিতে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট ও ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান

বিগত বছরগুলোতে পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানে ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৮তম। ২০২১ সালে তা নেমে ১০৮তম হয়। পরের দুই বছরে উন্নতি হয়ে ২০২২ সালে ১০৩তম এবং ২০২৩ সালে ১০১তম অবস্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে অবস্থান ছিল ৯৭তম।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের সূচকে উত্তর কোরিয়া ছিল ৯৯তম। সর্বশেষ তালিকায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর।

যেসব দেশে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা ভিসামুক্ত প্রবেশ, অন-অ্যারাইভাল ভিসা অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ই-ভিসার সুবিধায় যেসব দেশে বা গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. ভুটান
২. ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস
৩. বুরুন্ডি
৪. কম্বোডিয়া
৫. কোমোরোস
৬. কুক আইল্যান্ডস
৭. জিবুতি
৮. ডোমিনিকা
৯. ফিজি
১০. গ্রেনাডা
১১. গিনি-বিসাউ
১২. হাইতি
১৩. জামাইকা
১৪. কেনিয়া
১৫. কিরিবাতি
১৬. মাদাগাস্কার
১৭. মালদ্বীপ
১৮. মাইক্রোনেশিয়া
১৯. মন্টসেরাট
২০. নেপাল
২১. নিউয়ে
২২. বারবাডোস
২৩. রুয়ান্ডা
২৪. সামোয়া
২৫. সেশেলস
২৬. সিয়েরা লিওন
২৭. শ্রীলঙ্কা
২৮. সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস
২৯. সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিন্স
৩০. বাহামাস
৩১. গাম্বিয়া
৩২. পূর্ব তিমুর (তিমুর-লেস্তে)
৩৩. ত্রিনিদাদ ও টোবাগো
৩৪. টুভালু
৩৫. ভানুয়াতু

ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

পাসপোর্ট সূচকে কোনো গন্তব্যে ভ্রমণের সুবিধা থাকার অর্থ এই নয় যে সেখানে প্রবেশের সব শর্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে। দেশভেদে অন-অ্যারাইভাল ভিসার ফি, ই-ভিসার পূর্বানুমোদন, ফেরার টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ কিংবা অন্যান্য নথি প্রয়োজন হতে পারে।

তাই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ প্রবেশনীতি যাচাই করা জরুরি। এতে বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা নির্বিঘ্ন করা সহজ হবে।