সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

২৫ অক্টোবর ২০২৬

সৃজনশীল শিল্পকে দেশের মূলধারার অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক শক্তি বা ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ‘ক্রিয়েটিভ ফুটপ্রিন্টস’ (Creative Footprints) শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বইটি প্রকাশিত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অর্থনৈতিক চিন্তায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে দীর্ঘদিন অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনায় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এ খাতের বিকাশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, শুধু সরকারের পক্ষে এ খাতের দ্রুত বিকাশ সম্ভব নয়। এ জন্য নীতি সহায়তা ও অর্থায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি জানান, সৃজনশীল শিল্পের জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাত থেকেও এ খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে।

দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো, পণ্যের নকশা আধুনিক করা এবং ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশীয় কারুশিল্প ও সৃজনশীল পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক শিল্পীদের কাজের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা এবং তাদের পণ্য থেকে আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও এ খাত অবদান রাখতে পারবে।

সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও হস্তশিল্পের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে দেশে সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক।