নতুন পে স্কেলে মিলবে তিন মাসের বকেয়া, বাড়ছে না ভাতা
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর থেকে সমন্বিত অর্থ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অনলাইন ব্যবস্থা ‘আইবাস++’-এ হালনাগাদ তথ্য পূরণ করছেন কর্মচারীরা। ফলে চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়া অর্থ পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
তবে নতুন বেতনকাঠামোয় মূল বেতন বাড়লেও আপাতত ভাতা বাড়ছে না। অর্থ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ৩০ জুন কর্মচারীরা যে হারে ভাতা পেতেন, আপাতত সেই হারই বহাল থাকবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত।
লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি জরুরি হলেও শুধু বেতন বাড়িয়ে দুর্নীতি কমানো সম্ভব—এমন ধারণা সঠিক নয়। তাঁর মতে, দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর নজরদারিতে আনা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দুর্নীতি বন্ধ হবে না।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে বাজারে অর্থের প্রবাহ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এর ফলে মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম। কারণ, দেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা সীমিত।
তাঁর মতে, নতুন বেতনকাঠামোর সিদ্ধান্ত সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বেতনের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন বেতনকাঠামোর সুফল কতটা পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, সরকারি ব্যয়, কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাবও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।


