প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ২২ স্মারক সই

জাতীয়
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ২২ স্মারক সই
২৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি চুক্তি, চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং বেসরকারি পর্যায়ে দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া দুটি অনুদান চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকার।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এ সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে নতুন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

উপকূলীয় নিরাপত্তায় ২১২ কোটি ইয়েনের অনুদান

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে জাপান। পাশাপাশি বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহলজাহাজ সরবরাহের জন্য ২১২ কোটি জাপানি ইয়েনের অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের সমতুল্য।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে প্রায় ১০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ইয়েন ঋণ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ১৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১৯৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

ছয় বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

দুই দেশের বেসরকারি খাতের সহযোগিতার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারকসহ একাধিক চুক্তি ও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিনিয়োগগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এই কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিনিয়োগ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতার পরিকল্পনা

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। দেশের বিভিন্ন বিভাগে উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ছয়টি বিভাগে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়।

সফরসংশ্লিষ্ট এসব চুক্তি, সমঝোতা ও বিনিয়োগ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবহন অবকাঠামো, স্থানীয় উন্নয়ন, জলবায়ু মোকাবিলা এবং উপকূলীয় নিরাপত্তার মতো খাতে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপপ্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।