তাহসিফের মৃত্যু: সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা একসঙ্গে থাকা ‘জুনিয়র বন্ধু’ পিবিআই হেফাজতে
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দ্বীপকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।
এদিকে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভেসে থাকার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে দেখা করে আসি’—মাকে এ কথা বলেই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে।
তাহসিফের ছোট ভাইয়ের মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন দ্বীপ। তাঁদের শেষ সাক্ষাৎ ও একসঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দ্বীপের দাবি, ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। সে সময় তাহসিফকে স্বাভাবিক ও উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল।
তাহসিফের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন দ্বীপ। তাঁর কাছে পুরো ঘটনাটিই ধোঁয়াশাপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজেও দুজনের শেষ সাক্ষাতের কিছু দৃশ্য দেখা গেছে। ফুটেজ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে আসেন দ্বীপ। সেখানে নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রেখে পরিহিত কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর তাহসিফ ওপর থেকে নেমে গ্যারেজে আসেন। সেখানে দ্বীপের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও হাত মেলান। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে দুটি পৃথক মোটরসাইকেল নিয়ে গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত করছে পিবিআই। দ্বীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।


