হৃদযন্ত্রের জন্য দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ
কফি পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও পরিমিত কফি গ্রহণে হৃদযন্ত্রের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে না বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণা পর্যালোচনায়। বরং নির্দিষ্ট পরিমাণে কফি পান করলে হৃদযন্ত্রের কিছু রোগের ঝুঁকি কম থাকার পাশাপাশি মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলক কম হতে পারে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ করতে পারেন। সাধারণ হিসাবে এটি প্রায় পাঁচ কাপ কফির সমান। তবে স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় দিনে দুই থেকে চার কাপ কফি পানকারীদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে কম দেখা গেছে।
শুধু কফি নয়, চা, চকলেট, কোমল পানীয় এবং কিছু ওষুধ থেকেও শরীরে ক্যাফেইন প্রবেশ করে। ফলে প্রতিদিনের মোট ক্যাফেইন গ্রহণের হিসাব করার সময় এসব উৎসও বিবেচনায় রাখা জরুরি। গবেষকদের মতে, এসব উৎস থেকে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষ করে এনার্জি ড্রিংক নিয়ে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। এসব পানীয়তে উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন থাকতে পারে, যা হৃদযন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত বা অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তবে কফির প্রভাব সবার শরীরে এক রকম নয়। বয়স, শারীরিক গঠন, বিপাকপ্রক্রিয়া এবং ক্যাফেইন গ্রহণের অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে এর প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কফি পান করলে বুক ধড়ফড় করা, উদ্বেগ বেড়ে যাওয়া কিংবা ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া কফি তৈরির উপকরণও এর স্বাস্থ্যগত প্রভাবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, ফ্লেভার সিরাপ কিংবা বেশি পরিমাণ দুধ মেশালে কফির ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে পরিমিত কফি পানের সম্ভাব্য উপকারিতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে গবেষণার তথ্য বলছে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য পরিমিত কফি পান সাধারণত নিরাপদ। তবে ব্যক্তিভেদে ক্যাফেইন সহ্য করার ক্ষমতা ভিন্ন হওয়ায় নিজের শারীরিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় রেখে কফি পান করাই ভালো।
সূত্র: ইউরোনিউজ


