নির্বাচনের পর দায়িত্ব নয়, সুষ্ঠু ভোটই চূড়ান্ত লক্ষ্য : ড. ইউনূস
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার দায়িত্ব পালন করাই তার মূল লক্ষ্য—নির্বাচনের পর নতুন সরকারে কোনো ভূমিকা রাখার আগ্রহ নেই তার।
বুধবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউস আয়োজিত এক নীতি সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশ্বব্যাপী কূটনীতিক, গবেষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
“নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও সব দলের অংশগ্রহণে। নির্বাচন-পরবর্তী সরকারে দায়িত্বে থাকার কোনো চিন্তা আমার নেই,” — বলেন ড. ইউনূস।
‘জুলাই সনদ’ আসছে
তিনি আরও জানান, একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক রূপরেখা হিসেবে ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা আগামী মাসে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। এতে ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার রূপরেখা থাকবে।
সব প্রতিষ্ঠানে সংস্কার কমিশন
ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিটি প্রধান প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। লক্ষ্য হচ্ছে—সমঝোতার ভিত্তিতে টেকসই পরিবর্তন।
‘সভ্যতা পুনর্গঠন জরুরি’
নিজের বক্তব্যের শুরুতে তিনি বৈশ্বিক সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ জানান।
“আমরা একটি আত্মবিধ্বংসী সভ্যতার অংশ হয়ে গেছি। আমাদের দরকার একটি নতুন সভ্যতা—যেখানে কার্বন নিঃসরণ থাকবে না, ক্ষুধা ও বেকারত্ব থাকবে না।”
প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পটভূমিতে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হলো। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


