রাশিয়ার ডুমা নির্বাচনে রেকর্ড জয় পুতিনের দলের

রাশিয়ার ডুমা নির্বাচনে রেকর্ড জয় পুতিনের দলের
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার পার্লামেন্ট ডুমার নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া। দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৪৫০ আসনের ডুমায় দলটি ৩৫৫টি আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আগের ৩৪৩ আসনের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে দলটি।

সোমবার রাশিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এলা পামফিলোভা এ ফল ঘোষণা করেন। টানা তিন দিন ভোটগ্রহণের এই নির্বাচনে ক্রেমলিন বা ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচক হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক শক্তি অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি।

এলা পামফিলোভার দেওয়া প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ডুমার ৪৫০ আসনের মধ্যে ইউনাইটেড রাশিয়া পেয়েছে ৩৫৫টি। গত প্রায় ২৫ বছর ধরে রাশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে দলটি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলে পার্লামেন্টে পুতিনপন্থি শক্তির নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বড় ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনের ফলকে পুতিনের প্রতি রুশ সমাজের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে ক্রেমলিন। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ভোটের পরিসংখ্যান রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি রুশ সমাজের ‘সর্বোচ্চ ঐক্যের’ প্রমাণ।

নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি। দলটি পেয়েছে ৪০টি আসন। জাতীয়তাবাদী দল এলডিপিআর পেয়েছে ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি পেয়েছে ২০টি আসন।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সেনা অভিযান শুরুর পর এটিই ছিল দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। যুদ্ধের কারণে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কও ব্যাপকভাবে অবনতি হয়েছে।

নির্বাচনের সময় ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে উত্তেজনাও অব্যাহত ছিল। ভোটগ্রহণের শেষ দিন রোববার মস্কোতে বড় পরিসরে ড্রোন হামলা চালায় কিয়েভ। এতে দুজন নিহত হন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ভোটার উপস্থিতি ৫৯ শতাংশের বেশি, যা গত এক দশকের মধ্যে রাশিয়ার কোনো পার্লামেন্ট নির্বাচনে সর্বোচ্চ। প্রচণ্ড ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপের’ মধ্যেও ভোট দেওয়ায় নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান পামফিলোভা।

তিনি আরও জানান, ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষ হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

পুতিনের আমলে রাশিয়ার নির্বাচন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবারের নির্বাচনেও অধিকাংশ বিরোধী প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাশিয়ার একমাত্র উদারপন্থি ও যুদ্ধবিরোধী দল হিসেবে পরিচিত ইয়াবলোকোকে দলীয় ব্যালট থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাদের কেবল একক আসনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগেই কয়েকজন যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিককে কারাবন্দি করা হয়, আবার কেউ কেউ দেশ ছেড়ে চলে যান।

পুতিনের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকে বর্তমানে নির্বাসনে, কারাগারে অথবা আর জীবিত নেই। ২০২৪ সালে আর্কটিকের একটি কারাগারে মারা যান বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনি।

ইউক্রেনে অবস্থানরত রুশ সেনাদের সমর্থনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন পুতিন। মস্কোর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের কয়েকটি এলাকাতেও ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হয়।

নির্বাচনের পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচনেও ভোট নেওয়া হয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত চেচনিয়ায় নির্বাচন কমিশনের হিসাবে রমজান কাদিরভ ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। কঠোর হাতে চেচনিয়া পরিচালনার জন্য কাদিরভের আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত হওয়ার মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের ফল পুতিনের ক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ায় নতুন করে সামরিক সেনা সমাবেশ শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। পুতিন অবশ্য এ ধরনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে কিয়েভের দাবি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা করছে মস্কো।

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে পামফিলোভা বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভোটগ্রহণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সহায়তার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।