ভারতসহ ১০ দেশ নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে

ভারতসহ ১০ দেশ নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করা ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটির চূড়ান্ত ভোট বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪-২১১ ভোটে বিলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ অতিক্রম করে। দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেওয়ায় বিলটি পরবর্তী ধাপে নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

গত মাসে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে সহায়তাকারী ‘ছায়া বহর’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে জমা দেওয়া একটি সংশোধনীতে সম্ভাব্য শুল্কের আওতায় থাকা দেশ হিসেবে ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিলটির বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস। তাঁর দাবি, এই আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, যার ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অর্থায়নে সহায়তা করছে। এ কারণে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনপন্থি সংগঠনগুলোও আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ‘ইউক্রেন অ্যাকশন সামিট’-এর মাধ্যমে কিয়েভের প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রচার চালানো হচ্ছে।

প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিনিধি পরিষদের আগাম অবকাশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ৯ নভেম্বর আবার অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।