রাশিয়ার নির্বাচনে আবারও পুতিনের জয়
রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া রেকর্ড সংখ্যক ৩৫৫টি আসনে জয় পেয়েছে। তিন দিনব্যাপী নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৪৫০ আসনের স্টেট দুমায় দলটি আগের সর্বোচ্চ ৩৪৩ আসনের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করে এ তথ্য জানান। ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর ইউনাইটেড রাশিয়া দলীয় তালিকার ভোটে ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে কমিশনের হিসাবে জানানো হয়েছে। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ শতাংশের বেশি।
নতুন ফলাফলে স্টেট দুমায় ইউনাইটেড রাশিয়ার সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৩০১টি আসন প্রয়োজন। ৩৫৫ আসন পাওয়ায় দলটি সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে অন্য দলের সমর্থন ছাড়াই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখছে।
প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি ৪০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপিআর) ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসন পেয়েছে। এ জাস্ট রাশিয়া চারটি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।
এবারের নির্বাচন ছিল ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ভোটের আগে বিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ইয়াবলোকো দলের প্রার্থীদের ফেডারেল তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় ভোটারদের রাজনৈতিক বিকল্প আরও সীমিত হয়েছে।
নির্বাচনের সময় ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। রাশিয়ার কর্মকর্তারা এসব পরিস্থিতির মধ্যেও ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী পক্ষ ও আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনাও রয়েছে।
নির্বাচনের ফলকে প্রেসিডেন্ট পুতিনের নীতির প্রতি জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছে ক্রেমলিন। রুশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতাসীন দলের বড় জয় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এ ব্যাখ্যার সঙ্গে বিরোধী পক্ষ ও কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের মতের পার্থক্য রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবশ্য রাশিয়ার এই নির্বাচন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে। ইইউর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনে সমান রাজনৈতিক সুযোগ ছিল না এবং বিরোধী শক্তির অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার আয়োজিত ভোটকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে এর ফল স্বীকৃতি না দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইইউ।
জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে চেচনিয়ার প্রধান হিসেবে রমজান কাদিরভ ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বলে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।
কাদিরভের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী এ জাস্ট রাশিয়ার ইসমাইল দেনিলখানভ এবং কমিউনিস্ট পার্টির খালিদ নাকায়েভ প্রত্যেকে ০ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এই নির্বাচনটি রাশিয়ার জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের অংশ নয়; একই সময়ে অনুষ্ঠিত চেচনিয়ার আঞ্চলিক প্রধান নির্বাচনের ফল এটি।


