বরগুনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, উচ্চঝুঁকিতে পৌরসভার পাঁচ ওয়ার্ড
বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটি ওয়ার্ডই এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রূপ নিয়েছে। গবেষণা বলছে, এই অঞ্চলে লার্ভার ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় সাড়ে আট গুণ বেশি!
গত ১৬-২২ জুন বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আইইডিসিআর-এর গবেষণা টিম। তাদের তথ্যমতে, প্লাস্টিকের ড্রাম, বালতি, ফুলের টব, মগ ও বোতলেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু মশার প্রজনন ঘটছে।
এ সময় গবেষণা টিমের নেতৃত্ব দেওয়া আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন জানান,
“৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ২, ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডেও লার্ভার মাত্রা স্বাভাবিকের অনেক ওপরে।”
আইইডিসিআর জানায়, বরগুনায় এই মুহূর্তে ডেঙ্গুর তিনটি ধরন শনাক্ত হয়েছে।
-
ডেন-৩: ৪৬.৫%
-
ডেন-২: ৩৯.৫%
-
মিশ্র ডেন-২+৩: ১৪%
তবে আশার কথা—চিকুনগুনিয়া বা অন্য কোনো ভাইরাসিক ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েনি।
গবেষণায় জানা যায়, বরগুনায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখে, যা হয়তো শুধু পাতলা কাপড়ে ঢাকা। এতে জমে থাকা পানিই হয়ে উঠেছে ডেঙ্গুর প্রজনন ক্ষেত্র। পুরনো পানি বদলানো বা পরিষ্কার করার প্রবণতা নেই বললেই চলে।
ডা. রত্না দাস বলেন,
“এই পানি ব্যবহারের আগেই আবার নতুন পানি ঢালেন। ফলে পুরনো পানি থেকেই মশা ডিম পাড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের চলাচল, বিশেষ করে ঈদের সময়। এতে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত গতিতে।”
গবেষণার আওতায় আসা ১৮৪টি পরিবারের মধ্যে বরগুনা পৌর এলাকায় ১৩৮টি পরিবারে ৬৫ জন এবং সদর উপজেলার ৪৬টি পরিবারে ৭৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে:
-
স্বতন্ত্র বাড়ি: ৫৬%
-
সেমিপাকা বাড়ি: ৩৩%
-
বহুতল ভবন: ৯%
-
নির্মাণাধীন ভবন: ২%
বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৮ জন চিকিৎসক ও ২ জন কনসালট্যান্ট। শহরে লিফলেট বিতরণ, ভিডিও প্রচার, মাইকিং, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধনের ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম চলছে।
সিভিল সার্জনের অফিস ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে:
-
মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ
-
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা
-
জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে না আনলে আসন্ন বর্ষা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।


