মহাখালী সাততলা বস্তিতে আওয়ামী লীগের দোসর সংঘবদ্ধ নারী বাহিনী ফের সক্রিয়
রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তি এলাকায় মাদক কারবার, সংঘাত ও প্রভাবশালী মহলের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বনানী থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কালা নাসিরের প্রভাববলয় ব্যবহার করা একটি সক্রিয় গোষ্ঠী ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আশরাফুল আলম (হিরো আলম) যখন প্রচারণায় আসেন, তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলা হয়।
ওই সময় সাততলা বস্তি এলাকায় একদল নারী হিরো আলমের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। স্থানীয়দের দাবি, এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সদস্যরাই সংঘবদ্ধভাবে নারীদের ব্যবহার করে ওই হামলাটি পরিচালনা করেছিল। সেই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগের প্রতিধ্বনি আজও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।
সাততলা বস্তিতে বর্তমানে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তরুণ প্রজন্ম এই মাদক সিন্ডিকেটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ, এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয় বললেই চলে। প্রশাসনের এমন নীরবতা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এলাকায় এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক রাজনৈতিক কর্মীও নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। প্রাণভয়ে ও আতঙ্কে কেউ প্রকাশ্যে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না। প্রভাব বিস্তারে নারীদের সংঘবদ্ধভাবে ব্যবহার করার কারণে স্থানীয়ভাবে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছেন।
একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সমাজে ভয় এবং আতঙ্কের এই পরিবেশ কখনোই কাম্য হতে পারে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার এবং নিরাপদ জীবনযাপনের অধিকার সবার রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—অপরাধী যে দলের বা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তার পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধের ভিত্তিতে বিচার করতে হবে।
সাততলা বস্তি এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে এবং মাদকের বিস্তার রোধে একটি নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

