মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ীকে আঘাত করে টাকাসহ মোবাইল ছিনতাই

দেশজুড়ে
মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ীকে আঘাত করে টাকাসহ মোবাইল ছিনতাই

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র সাউদপাড়া মতির মোড়ে নামক স্থানে এক মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ ব্যবসায়ী ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে স্বর্বস্য খুইয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১১টা দিকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন বিকাশ ব্যবসায়ী আনিসুল হক টিপু। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত করে তাঁর কাছ থেকে নগদ অর্থ ও ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আজ বুধবার (২২জুলাই) বিকেলে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাতে সাউদপাড়া মতির মোড় থেকে নিজ বাসার উদ্দেশ্যে হেঁটে রওনা দেন আনিসুল হক টিপু। তার বাসায় পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ছয় থেকে সাত মিনিট। কিন্তু পথের মাঝামাঝি পৌঁছালে ৩ থেকে ৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দল তাঁর গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে তার কাছে থাকা নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে তিনি জানান। মোবাইল ফোনগুলোতে বিকাশ, নগদ, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ফ্লেক্সিলোড সংক্রান্ত কয়েক লাখ টাকার লেনদেন চলমান ছিল বলেও ভুক্তভোগী জানান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

‎আহত আনিসুল হক টিপু আরও জানান, আমি প্রতিদিন এই পথেই বাড়ি ফিরি। কখনো কল্পনাও করিনি এত অল্প দূরত্বের মধ্যেই এমন ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে। আমার কষ্টার্জিত অর্থের পাশাপাশি ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল ফোনগুলোও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে আমি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

‎স্থানীয়দের মতে, পৌর শহরের ব্যস্ত এলাকায় এমন সংঘবদ্ধ ছিনতাইয়ের ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে চলাচল করায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
‎ভুক্তভোগী আনিসুল হক টিপু কেন্দুয়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যবসায়ী এ ধরনের নৃশংস ঘটনার শিকার না হন। একযোগ আগেও অর্থাৎ ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর এনামুল হক নামে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে গুলি করে তার সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়েছিল দুর্বৃত্বরা পরে ৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মার যান এনামুল হক।

টিপুর ‎এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। আজ বুধবার (২২জুলাই) ভুক্তভোগী অজ্ঞাত নামীয় আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া,ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক হওয়া এবং আমাদের সহযোগীতা নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন।