এ বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার

দেশজুড়ে
এ বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

২১ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম, বর্ণ কিংবা ঐতিহাসিক ভূমিকা নয়, মানুষের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, চলতি বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে এ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম বা বর্ণ কোনো বিবেচ্য বিষয় হবে না। যারা আর্থিকভাবে বেশি অসচ্ছল, তাদের দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রয়োজনের ভিত্তিতেই কার্ড দেওয়া হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় বা ঐতিহাসিক ভূমিকা এতে প্রভাব ফেলবে না।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

দুর্গাপূজার আয়োজন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের উৎসবে তিনি ভিন্নধর্মী পরিবেশ লক্ষ্য করেছেন। পূজার আগেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, পেশাজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব একটি জাতীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ও সমর্থন এ আয়োজনকে আরও অর্থবহ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাজ ও রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ গড়ার প্রত্যয় থেকেই এ ধরনের সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব বাড়ছে। তাঁর মতে, একটি আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, অতীতে দেশে মানুষের জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা সংকট দেখা গেছে। ভিন্নমতের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

এবারের দুর্গোৎসবে সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলতি বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে এ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে পর্যায়ক্রমে সুবিধাভোগীর পরিধি বাড়ানো হবে।