চুয়াডাঙ্গায় গার্লস স্কুলের কম্পিউটার অপারেটর শাহ জামাল জালিয়াতি মামলায় শ্রীঘরে
Oplus_131072
চুয়াডাঙ্গা গার্লস স্কুলের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্তের সময় বিদ্যালয়ের আউটসোর্সিং এর কম্পিউটার অপারেটর শাহ জামালের বিরুদ্ধে গ্রুত্বপূর্ণ নথি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাহ জামালের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা দায়ে করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাকে জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শাহ জামাল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম জানান, ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারী শাহ জামাল আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটরের হিসাবে যোগদান করেন। এরপর থেকে শাহাজামাল বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিভাগে কাজ করে আসছিল।
কিন্তু গত ২৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের এস এস সি নির্বাচনী পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর পর বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নও ফাঁস হয়ে যায়। ঘটনাটি টক অবদি টাউনে পরিনত হলে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার গত ২৮ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিয়ে জরুরী মিটিং এ বসে এবং পরীক্ষা কমটি বাতিল ও কমিটির সবাইকে শোকোচ করার নির্দেশ দেন এবং ঘটনা তদন্তের জন্যও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( আই সিটি শিক্ষা) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিট গঠন করে দেন। সে অনুসারে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী
গত ২৮ অক্টোবর প্রশ্ন ফাঁসের তদন্ত শুরু করে এই তদন্ত চলাকালে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শাহজামালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টার রোলে লোক নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণ পায়। এছাড়াও তাঁর ব্যক্তিগত কম্পিউটারে পাওয়া তথ্যের মধ্যে মাস্টার রোলে নিয়োগসংক্রান্ত নথি রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে কোন কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কতজন নিয়োগ পেয়েছেন, কত টাকা লেনদেন হয়েছে এবং কথিত নথিগুলোতে কার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
শুধু নিয়োগ সংক্রান্ত নথিই নয়, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিফট পরিবর্তন সংক্রান্ত কিছু তথ্যও কম্পিউটারে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব তথ্যের সঙ্গে ভর্তি-বাণিজ্য বা অনিয়মের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে
মামলায় এ ঘটনায় শহরের বাতাসে ভাঁসছে, কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে এসেছে। তার আগে শাহ জামালকে গত বুধবার রাতে তদন্ত প্রধানের নির্দেশে পুলিশ তাকে থানা হেফাজতে নিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম কম্পিউটার অপারেটর শাহ জামালের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় জাল- জালিয়াতির মামলা দায়ের কলরে পুলিশ উক্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
চুয়াডাঙ্গার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন,প্রতারণা ও জালজালিয়াতির অভিযোগে শাহ জামালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় আইননুগ ব্যবস্থ গ্রহণ শেষে আদালতের সোর্পদ করা হয়েছে।
শাহ জামালের গ্রেপ্তার ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা চুয়াডাঙ্গা শহর টক অবদি টাউনে পরিনত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে গেছে।


