সব ব্যাংক কর্মকর্তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ

এন্ট্রি পদে নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক

সব ব্যাংক কর্মকর্তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশের সব ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সনদ জাল প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিস্টেমে রিপোর্ট করতে হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে দেশের সব ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে যেকোনো পদে নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ চাকরিতে যোগদানের এক বছরের মধ্যে যাচাই করতে হবে। সার্কুলার জারির আগে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সনদও আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সনদ যাচাই করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। যাচাই শেষে প্রাপ্ত প্রত্যয়ন ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের প্রতিষ্ঠান শিক্ষাগত সনদ যাচাই করেছে—এমন প্রত্যয়ন থাকলে পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না।

কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর শিক্ষাগত সনদ জাল প্রমাণিত হলে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট মেমোরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও, পরামর্শক ও উপদেষ্টা ছাড়া, এক বছরের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই করতে হবে।

এন্ট্রি পদে বাধ্যতামূলক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা

এখন থেকে ব্যাংকের যেসব এন্ট্রি পদে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই, সেসব পদে নিয়োগের জন্য আবশ্যিকভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে নৈর্ব্যক্তিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করতে হবে।

ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার বা সমমানের পদকে এন্ট্রি পদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একইভাবে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার, ট্রেইনি ক্যাশ অফিসার, জুনিয়র ক্যাশ অফিসার, ক্যাশ অফিসার বা সমমানের পদও এর আওতায় থাকবে।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সবচেয়ে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীকে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর পদে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। অন্তত মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কেন এমন নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা জরুরি।

সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ উদ্যোগ নিয়েছে। ইসলামী ব্যাংক থেকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও শিক্ষাগত সনদ নিয়ে নানা অনিয়মের তথ্য সামনে আসে। এ ছাড়া কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়েও অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে।

মানবসম্পদ নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ

নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি ব্যাংককে যুগোপযোগী ও কার্যকর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে তা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।

নীতিমালায় নিয়োগ, শিক্ষানবিশকাল, স্থায়ীকরণ, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা উন্নয়ন, বেতন-ভাতা, চাকরিচ্যুতি, অবসর-পরবর্তী সুবিধা, ঋণ, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, পদাবনমন, পদায়ন ও বদলির বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা, চাকরির অবসান, ইস্তফা, ছুটি ও অনুপস্থিতি, আচরণবিধি, শৃঙ্খলা, স্বার্থের সংঘাত, দাপ্তরিক গোপনীয়তা এবং হুইসেল ব্লোয়ার নীতিমালাও রাখতে হবে।

কর্মীদের অভিযোগ ও অসন্তোষ নিরসনের পদ্ধতি, ব্যক্তিগত ব্যবসা বা অন্য পেশায় যুক্ত থাকার বিধান, অনিয়ম বা অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা, আপিল ও পুনর্বিবেচনা, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ এবং কর্মস্থলে হয়রানি প্রতিরোধের বিষয়ও নতুন মানবসম্পদ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।