ফল প্রকাশের আগেই আন্দোলনে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, পাসের নিয়মে পরিবর্তন ও সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার দাবি
এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হয়েছে মাত্র কিছুদিন আগে। লিখিত পরীক্ষার পর ব্যবহারিক পরীক্ষাও শেষ হয়েছে ২২ মে। তবে ফল প্রকাশের আগেই আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে একদল ফলপ্রার্থী। তাদের দাবি—পাসের নিয়মে পরিবর্তন এবং ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা চালু করা।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেয়, ২৫ মে (রোববার) ঢাকার শিক্ষা ভবনের সামনে তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করবেন।
দাবি দুটি হলো:
-
লিখিত (তত্ত্বীয়) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার নম্বর একসঙ্গে যোগ করে পাস-ফেল ও জিপিএ নির্ধারণ।
-
সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা চালু করা—অর্থাৎ ফল প্রকাশের কিছুদিন পর ফেল করা বিষয়ের পুনরায় পরীক্ষা।
“২০১৮ সালের আগে এমসিকিউতে আলাদা পাস মার্ক ছিল না”
রাজধানীর একটি স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থী শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, “২০১৮ সালের আগে লিখিত ও এমসিকিউ আলাদা করে পাস করার নিয়ম ছিল না। এখন একজন শিক্ষার্থী লিখিত অংশে ভালো করলেও শুধু এমসিকিউতে ফেল করলেই তাকে ফেল বলে ধরা হয়। এটা যৌক্তিক নয়। আমরা চাই দুই অংশের নম্বর একসঙ্গে হিসাব করে পাস নির্ধারণ করা হোক।”
শাহনেওয়াজ আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কথা বলতে চাই। আশা করছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড আমাদের দাবিগুলো আমলে নেবে এবং ফল প্রকাশের আগে সিদ্ধান্ত নেবে।”
সাড়ে ১৯ লাখ শিক্ষার্থীর অপেক্ষা ফলের
চলতি বছর ১০ এপ্রিল শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ১৯ লাখ ২৮ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিলেন। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ১৩ মে, আর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে ২২ মে। তবে ভোকেশনাল শাখার বাস্তব প্রশিক্ষণ চলবে ২৩ মে থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত।
ফল প্রকাশের তারিখ এখনও ঘোষণা না হলেও, সাধারণত পরীক্ষা শেষের ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে শিক্ষা বোর্ড।
পরীক্ষার্থীদের দাবি কতটা বাস্তবসম্মত?
শিক্ষাবিদদের মতে, পাসের নিয়মে নমনীয়তা আনার দাবিটি নতুন নয়। তবে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার দাবি বাস্তবায়ন হলে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা উচ্চশিক্ষায় সুযোগ পাবার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।


