রিয়ামনিকে না পাওয়ার হতাশায় হিরো আলমের আত্মহত্যার চেষ্টা
বিখ্যাত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তি আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তার বন্ধুর দাবি, ঘুমের ওষুধ সেবনের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে হিরো আলম ধুনট উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী ভান্ডারবাড়ি গ্রামে তার বন্ধু নাট্যকার জাহিদ হাসান সাগরের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে পারিবারিক টানাপড়েন, বিশেষ করে স্ত্রী রিয়ামনি-কে কেন্দ্র করে মানসিক চাপ নিয়ে কথোপকথন হয় বলে জানা যায়।
জাহিদ হাসান সাগর বলেন,
“রাতভর রিয়ামনিকে নিয়ে হিরো আলম অনেক কথা বলেছেন। খুব হতাশ দেখাচ্ছিল তাকে। বারবার বলছিলেন, ‘যেখানে যাই, লোকে আমাকে ঘিরে রাখে, প্রশ্ন করে। একটু নিঃসঙ্গ থাকতে চাচ্ছি।’ আমার ধারণা, মানসিক চাপে থাকায় তিনি হয়তো ঘুমের ওষুধ খান।”
শুক্রবার সকালে তাকে ডাকতে গিয়ে দেখা যায় তিনি সাড়া দিচ্ছেন না। তার বালিশের পাশে ঘুমের ওষুধ পাওয়া যায়। এরপরই সাগর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মনিরুজ্জামান জানান,
“রোগী ঘুমের ওষুধ সেবনের কারণে স্নায়বিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছি। তবে তার আত্মীয়রা কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। হিরো আলম বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।”
ঘটনার খবর পাওয়ার পর হিরো আলমের স্ত্রী রিয়ামনি বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন,
“খবর পেয়ে আমি দ্রুত বের হয়েছি। কী ঘটেছে, এখনো স্পষ্ট না। হাসপাতালে গিয়ে বুঝতে পারব।”
এদিকে হিরো আলমের অসুস্থতার খবরে তার অনুসারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত তার সুস্থতা কামনা করে বার্তা দিচ্ছেন অনেকে।
এই ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—জনপ্রিয়তা, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া সত্ত্বেও একজন মানুষ কতটা একাকী ও মানসিক চাপে থাকতে পারেন। ব্যক্তি জীবনের চাপ ও সামাজিক চাপ মিলে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তা উপলব্ধি করার সময় এখনই।


