করাচিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাকিস্তানি তারকাদের ক্ষোভ
পাকিস্তানের করাচির বহুল পরিচিত বাণিজ্যিক ভবন গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অসংখ্য দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীর সদস্যদের টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের বহু তারকা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তারা করাচি শহরের অব্যবস্থাপনা, ভবনের নিরাপত্তাহীনতা এবং সরকারের উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করেছেন।
সংগীতশিল্পী শা গিল নিহতদের জন্য দোয়া কামনা করেন। অভিনেত্রী মহিরা খান প্রশ্ন তুলেছেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার ফল। তিনি বলেন, করাচির বেশিরভাগ ভবনেই ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।
অভিনেত্রী আয়েশা ওমার বলেন, “করাচির মানুষ এমন দুর্ভোগের যোগ্য নয়। ভঙ্গুর অবকাঠামোর মধ্যেই মানুষ প্রতিদিন জীবনঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে।” একই সুরে কথা বলেন দুরেফিশান সালিম। তিনি শহরের মানুষের জন্য কার্যকর ও দায়বদ্ধ সরকার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
লেখক ও সমাজকর্মী ফাতিমা ভুট্টো বলেন, আগেও বহুবার নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ ছিল, কিন্তু তা কাজে লাগানো হয়নি। সংগীতশিল্পী হাদিকা কিয়ানি করাচি ও দেশের অন্যান্য শহরে জীবনরক্ষাকারী অবকাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত বেদনার কথাও উঠে এসেছে। সংগীতশিল্পী হারুন শাহিদ জানান, তার ছেলের শিক্ষকের পরিবার ওই ভবনে আটকা পড়েছিল। অভিনেত্রী সাজল আলী, আইমান খান, সাবুর আলীসহ অনেকেই নিহতদের প্রতি শোক ও আহতদের জন্য প্রার্থনা জানিয়েছেন।
র্যাপার ইভা বি এবং অভিনেত্রী মিনাল খান গুল প্লাজার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিগত স্মৃতি শেয়ার করে বলেন, “করাচির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” হানিয়া আমির, ইয়াসমা গিল ও নির্মাতা আদনান মালিক ভবন নিরাপত্তা মানদণ্ডে চরম অবহেলার কথা তুলে ধরেন।
উপস্থাপিকা আনুশে আশরাফ করাচির নাগরিকদের দুর্দশার সঙ্গে অভিজাত অনুষ্ঠানের বৈপরীত্য তুলে ধরে সামাজিক বৈষম্যের সমালোচনা করেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এখনও প্রায় ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেরিতে উদ্ধার তৎপরতা এবং সীমিত সরঞ্জামের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্ঘটনা পাকিস্তানে অগ্নিনিরাপত্তা আইন ও তার বাস্তবায়নের ব্যর্থতার বড় উদাহরণ। এখন প্রশ্ন হলো—এই ট্র্যাজেডির পর বাস্তব পরিবর্তন আসবে কি না, নাকি সময়ের সঙ্গে সবই ভুলে যাওয়া হবে।


