পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল

স্বাস্থ্য
পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল
৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ ও থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের আদলে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে হাসপাতালটির সেবা আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। দ্রুতই আলাদা পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর আশা করছেন তারা। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মাধ্যমে হাসপাতাল পরিচালিত হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নতুন কাঠামোয় বিএমইউর উপাচার্য হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং একজন উপ-উপাচার্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকবেন—এমন পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট হাসপাতাল পরিচালনায় অভিজ্ঞ একজনকে বাইরে থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

হাসপাতালের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সহায়ক সেবা প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে দক্ষ প্রতিষ্ঠানের কাছে আউটসোর্স করা হবে। চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের সব জনবল বাইরে থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং নিয়োগ হবে চুক্তিভিত্তিক। বিএমইউর বর্তমান চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিতভাবে এই হাসপাতালে কাজ করবেন না। তবে সরকারি চাকরি ছেড়ে কেউ এখানে যোগ দিতে চাইলে সেই সুযোগ থাকবে।

নতুন ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে হাসপাতাল থেকেই তাদের তুলনামূলক ভালো বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিএমইউর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামী ৮ অক্টোবর সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, হাসপাতালটি দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এটি ধাপে ধাপে চালু করতে হবে, কারণ হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হবে।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালনা সহজ করা এবং চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর মাধ্যমে হাসপাতাল পরিচালনায় প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে।

বিএমইউ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটি একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ এবং সরকারের ১০ শতাংশ শেয়ার থাকবে। প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে দক্ষ চিকিৎসক ও জনবল আকর্ষণ করাই এই করপোরেট কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য। কর্তৃপক্ষের আশা, হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাও কমবে।

এর আগে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং বিভিন্ন জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে গত ১১ মে বিএমইউর সিন্ডিকেট সভায় সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে এবং সদস্যসচিব করা হয় হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সীকে।

বিশ্বমানের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালটিতে কার্ডিও অ্যান্ড সেরিব্রোভাসকুলার, হেপাটোবিলিয়ারি অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, কিডনি রোগ ও ইউরোলজি এবং জরুরি ও ট্রমা—এই পাঁচটি বিশেষায়িত কেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ১৪টি অপারেশন থিয়েটার, ১০০ শয্যার আইসিইউ ও ১০০ শয্যার জরুরি ইউনিট। এছাড়া ছয়টি ভিভিআইপি, ২২টি ভিআইপি ও ২৫টি ডিলাক্স কেবিন রয়েছে।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি দক্ষ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে সব নিয়োগই চুক্তিভিত্তিক হবে।

১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৭৫০ শয্যার এই হাসপাতাল ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত হাসপাতালটির জন্য নির্দিষ্ট জনবল নিয়োগ হয়নি। বিএমইউর বিদ্যমান কর্মী ও বাজেটের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।