ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছুঁইছুঁই, ২৪ ঘণ্টায় ৪ প্রাণহানি

স্বাস্থ্য
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছুঁইছুঁই, ২৪ ঘণ্টায় ৪ প্রাণহানি
১০ অক্টোবর ২০২৬

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৯ জনে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৩১ জন। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯৭ হাজার।

শনিবার (১০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুবিষয়ক ড্যাশবোর্ডে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে নারীর হার ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পুরুষের হার ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যু হয়নি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে ৩৬ জন ও আগস্টে ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেপ্টেম্বরে মারা যান ১৪৮ জন, যা চলতি বছরের এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু। অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন। এর মধ্যে গত ৬ অক্টোবর এক দিনেই সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে, চলতি বছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ৮০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৩৬ জন মারা গেছেন। ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় প্রাণহানি হয়েছে ১৭ জনের।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৬১ জন, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ২৬ জন করে, ময়মনসিংহে ২৩ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, রংপুরে ছয়জন এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৪৬২ জন। এর আগে সেপ্টেম্বরে ভর্তি হয়েছিলেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

সব মিলিয়ে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৭ হাজার ৮২ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩৮০ জন।

ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।