‘সামাজিক ট্যাবু’ ভেঙে কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক ট্যাবু ভেঙে কিশোর-কিশোরীদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, শুধু আলোচনা নয়, নীতি সংস্কার ও পরিকল্পনাকে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কার্যকর সেবা পৌঁছে দিতে হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এর একটি অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রতি পাঁচজনের একজন কিশোর-কিশোরী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সুস্থ ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ডিজিটাল সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ নীতিগত অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কৈশোরে শারীরিক পরিবর্তন ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কৌতূহল স্বাভাবিক উল্লেখ করে ড. এম এ মুহিত বলেন, সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার কারণে অনেক কিশোর-কিশোরী এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য কোথায় পাবে বা কার কাছে জানতে চাইবে, তা বুঝতে পারে না। একইভাবে মানসিক আঘাত ও পারিবারিক সহিংসতা তাদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা চেপে রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
তিনি বলেন, প্রশ্ন করলেই সন্তানদের ‘বেয়াদব’ আখ্যা দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি তাদের নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি সব উদ্যোগ ও কর্মসূচিকে পরিবারকেন্দ্রিক করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন
কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে বড় পরিসরে ক্যাম্পেইন শুরু হবে।
তিনি বলেন, দেশের সব এলাকার সামাজিক পরিস্থিতি এক রকম নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে যেসব এলাকাকে বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সহিংসতার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, সেখানে লক্ষ্যভিত্তিক বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণও নিশ্চিত করা হবে।
এআই ব্যবহারে তথ্য যাচাইয়ের পরামর্শ
কিশোর-কিশোরীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, যথাযথ কাউন্সেলিং ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎসের অভাবে তরুণেরা বিভিন্ন বিষয়ে জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সহায়ক হলেও একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
তরুণদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং এবং বিশ্বস্ত তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করছে বলেও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।


