মানবদেহে ক্যানসারের টিকার সফল ট্রায়াল রাশিয়ার

স্বাস্থ্য
মানবদেহে ক্যানসারের টিকার সফল ট্রায়াল রাশিয়ার
২৬ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার উদ্ভাবিত ক্যানসার টিকা ‘নিওঅঙ্কোভ্যাক’ মানবদেহে পরীক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে আশাব্যঞ্জক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। টিকাটি গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শরীরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়ক রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। তবে প্রাথমিক এই ফলাফল থেকে টিকাটির কার্যকারিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। খবর আরটির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিন্সবুর্গ জানিয়েছেন, মেলানোমার চিকিৎসায় তৈরি নিওঅঙ্কোভ্যাক টিকা গ্রহণকারী প্রথম রোগীর শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে। তার শরীরে ক্যানসার ও এর ছড়িয়ে পড়া কোষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়ক রোগপ্রতিরোধী উপাদান তৈরির ইতিবাচক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে গিন্সবুর্গ বলেন, রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে। পুরো চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় তার শরীরের রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

৬০ বছর বয়সী রোগীর শরীরে প্রয়োগ

চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো এক রোগীর শরীরে নিওঅঙ্কোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়। ৬০ বছর বয়সী ওই রোগী মস্কোর হারজেন অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তিনি তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা এবং মেটাস্টাসিসে আক্রান্ত। মেটাস্টাসিস বলতে ক্যানসার মূল স্থান থেকে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়াকে বোঝায়।

রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বছর উন্নত পর্যায়ের মেলানোমার চিকিৎসায় এমআরএনএভিত্তিক নিওঅঙ্কোভ্যাক এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় পেপটাইডভিত্তিক ‘অঙ্কোপেপ্ট’ ব্যবহারের অনুমোদন দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গিন্সবুর্গ আরও জানান, মেলানোমায় আক্রান্ত আরও ১০ জন রোগীর জন্য বিশেষায়িত টিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে এসব টিকা প্রস্তুত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করে নিওঅঙ্কোভ্যাক?

ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রেই কাপরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ধরনের পদ্ধতির প্রতিনিধিত্ব করে। এর লক্ষ্য শুধু ক্যানসারের চিকিৎসা করা নয়, বরং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করা।

টিকাটি তৈরির ক্ষেত্রে রোগীর টিউমার ও সুস্থ টিস্যুর নমুনা বিশ্লেষণ করে তার জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে রোগীভিত্তিক বিশেষায়িত টিকা তৈরি করা হয়, যাতে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য চিনতে এবং সেগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

এমআরএনএ প্রযুক্তিভিত্তিক এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো রোগীর শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া। তবে টিকাটি কতটা কার্যকর, কতজন রোগীর ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নিরাপত্তা কেমন—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও গবেষণা ও রোগীদের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

অন্য ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়েও কাজ করছে রাশিয়া

রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, পেপটাইডভিত্তিক অঙ্কোপেপ্ট গ্রহণকারী রোগীদের শরীরেও প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ দেখা গেছে।

এদিকে গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনেও কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের কাছে রোগীভিত্তিক ক্যানসার টিকা একটি সম্ভাবনাময় গবেষণাক্ষেত্র। তবে নিওঅঙ্কোভ্যাকের প্রথম রোগীর শরীরে ইতিবাচক রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও এটিকে ক্যানসার নিরাময়ের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। টিকার কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল তথ্য প্রয়োজন।