মুখে হুমকি দিলেও আড়ালে ইরানকে রাজি করাতে পাকিস্তানকে চাপ দিতো ট্রাম্প
গত কয়েক সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তবে একই সময়ে তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তানকে চাপ প্রয়োগ করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামাবাদকে রাজি করিয়ে তেহরানকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে আনতে চেয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানকে কঠোর হুমকি দিচ্ছিল এবং দাবি করছিল, তেহরান ‘চুক্তির জন্য অনুরোধ করছে’, অন্যদিকে একই সময়ে তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে গোপন যোগাযোগে লিপ্ত ছিল। পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই কূটনৈতিক তৎপরতার নেতৃত্ব দেন।
এর ফলেই মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। তবে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে, কারণ তেহরান তাদের ১০ দফা প্রস্তাবকে কাঠামো হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, ‘এটি আলোচনা শুরু করার ভিত্তি মাত্র’।
ইরান ও পাকিস্তান দাবি করছে, লেবাননও যুদ্ধবিরতির আওতায় রয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার লেবাননে হামলায় ১৫০-এর বেশি নিহত হয়েছেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়ার পর যুদ্ধবিরতির দিকে মনোযোগ বেড়েছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে তেহরান এখনও পদক্ষেপ নেয়নি। তারা আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর টোল আদায়ের অধিকারও দাবি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে সকলের নজর এখন ইসলামাবাদে সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত আলোচনার দিকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশগ্রহণ করবেন।


