ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীর ওপর গোপন নজরদারি

ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীর ওপর গোপন নজরদারি
নিউজ ডেস্ক
২০ এপ্রিল ২০২৬

ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থী ও একাডেমিকদের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাজ্য-এর একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। এ কাজে বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) আল জাজিরা এবং লিবার্টি ইনভেস্টিগেশন-এর যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হরুস সিকিউরিটি কনসালটেন্সি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এই নজরদারির কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থী ও একাডেমিকদের নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করত।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অন্তত এক ডজন বিশ্ববিদ্যালয় ২০২২ সাল থেকে এই ধরনের সেবা নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৪৪ লাখ পাউন্ড পরিশোধ করা হয়েছে। মাসিক ভিত্তিতে প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৯০০ পাউন্ড পর্যন্ত ফি দিচ্ছিল বলে জানা যায়।

নজরদারির তালিকায় ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, কিংস কলেজ লন্ডন, শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়, লেসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কার্ডিফ মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়-এর নামও এসেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারী গ্রুপ এবং অন্যান্য সংগঠন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে দৈনিক রিপোর্ট তৈরি করা হতো।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দাবি, তারা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য এসব সেবা নিয়েছে এবং এটি সরাসরি ব্যক্তিগত নজরদারি নয়।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক জিনা রোমিও এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে “গভীর আইনি উদ্বেগের বিষয়” বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন একে “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছে।