বাংলাদেশ বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশকে বিনিয়োগ ও ব্যবসার জন্য একটি উদীয়মান গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে চীনা উদ্যোক্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রথম বিদেশভিত্তিক ‘বিনিয়োগ অফিস’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) Beijing-এ অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। কূটনৈতিক সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে এই সম্পর্ক শিল্পায়ন, বাণিজ্য ও উৎপাদন খাতে গভীর অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন কেন্দ্র হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর, নীতিগত স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ সময় তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা এবং আইনি সুরক্ষার বিষয়েও আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মংলায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় বিডায় বিশেষ ডেস্ক চালু করা হয়েছে এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য সহজলভ্য করতে পৃথক ওয়েবসাইটও তৈরি করা হয়েছে। নতুন লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় ভবিষ্যতে ১৫ দিনের কম সময়ের মধ্যে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত বস্ত্রখাতকে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী চীনা উদ্যোক্তাদের এসব খাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে উভয় দেশের জন্য টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পোন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

