সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর কত দিন বন্ধ থাকবে?

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর কত দিন বন্ধ থাকবে?
১৩ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা ও নতুন করে হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সৌদি আরবের আকাশপথে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিভিন্ন বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল করেছে।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করে, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এর কিছুক্ষণ আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

হুথিরা আরও দাবি করেছে, সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইত এলাকায় একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোমবার জারি করা বিমান চলাচলসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর রাত ৯টা পর্যন্ত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। শনিবারের হামলার পর থেকেই বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববারের আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং প্রায় এক ডজন মানুষ আহত হন।

সৌদি আরবের বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন

সাম্প্রতিক হামলাগুলো সৌদি আরবের বিমান পরিবহন খাতে কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বড় বিঘ্ন তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা বিমান পরিবহনশিল্পের সংকট আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে উড়োজাহাজের জ্বালানির বাড়তি দাম যুক্ত হওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় ও মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

একই সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক বিমান চলাচলের স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

বিমান চলাচলের নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শক সংস্থা অপসগ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জি বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচলকে লক্ষ্য করে এ ধরনের ধারাবাহিক ও তীব্র হামলা নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, বর্তমান ঝুঁকির পরিস্থিতি কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তা নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরবগামী ও দেশটি থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।