ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ নিক্ষেপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এগলিন বিমানঘাঁটিতে ২০০৩ সালের ১১ মার্চ ‘মাদার অব অল বম্বস’ (এমওএবি) বোমা। ছবি: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর-গেটি ইমেজেস।ফাইল ছবি
ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার নির্দেশ দিলে এ বোমা ব্যবহার করা হতে পারে বলে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সিএনএন।
জিবিইউ-৪৩/বি নামের প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের এই বোমাটি ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে আইএসের অবস্থানে হামলা চালাতে প্রথমবারের মতো বোমাটি ব্যবহার করা হয়।
তবে ইরানে এই বোমা ব্যবহার নিয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম হলেও মাটির গভীরে অবস্থিত সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু উপাদান রাখা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করে। পাহাড়টির ভেতরে গ্রানাইটের স্তর দিয়ে সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এসব স্থাপনায় আঘাত হানার জন্য বোমাটির মাটির গভীরে প্রবেশের সক্ষমতা যথেষ্ট নয়।
এ ছাড়া জনবসতির কাছাকাছি জ্বালানি অবকাঠামো বা অন্য স্থাপনায় এ ধরনের শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করা হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এতে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এমন সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প খুঁজছে, যার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি বিজয় দাবি করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ায় প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। তাঁর উপদেষ্টাদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করছেন, পরিস্থিতির পরিবর্তনে এই অবস্থান বদলাতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। অন্যদিকে, পেন্টাগন বলেছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়ে থাকে।
সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে হলে স্থলবাহিনী পাঠিয়ে বড় ধরনের অভিযান চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে এমন অভিযানে হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি।
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় বোমাটি তৈরি করা হয়। এটি মাটিতে আঘাত করার আগেই বিস্ফোরিত হয়ে চারদিকে প্রচণ্ড চাপ ও বিস্ফোরণতরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে। শত্রুপক্ষের বড় সেনাদলকে আতঙ্কিত করা এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য করার মতো মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরিও অস্ত্রটি নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
তবে ইরানে এই বোমা ব্যবহারের বিষয়টি এখনো সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। নতুন করে হামলার নির্দেশ দেওয়া হবে কি না, কিংবা নির্দেশ দেওয়া হলে কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।


