নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় তেল ও এআই অবকাঠামোয় আঘাতের হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল, ডেটাসেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন করে হামলা চালালে তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোনো ‘রেড লাইন’ মানা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের পর হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে যৌথ হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কোনো তথ্য প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পাল্টা হামলা শুধু সামরিক স্থাপনা বা তেল অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোর ডেটাসেন্টার, এআই অবকাঠামো এবং সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবলও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকতে পারে।
বৈশ্বিক ইন্টারনেট ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাবের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা হলে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ, ক্লাউড সেবা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবলের ওপর নির্ভরশীল। এসব কেবলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে একাধিক দেশের ডিজিটাল যোগাযোগ ও অনলাইন সেবায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি তেহরান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা নিরসন এবং পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা।


