ইরানে আর হামলা না চালানোর আহ্বান ফ্রান্স-জার্মানিসহ আট দেশের
ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা না চালিয়ে কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দেশগুলোর প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া কোনো দেশই ইরানে নতুন করে সামরিক হস্তক্ষেপ বা হামলার পক্ষে নয়। এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। তাঁর মতে, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনীতি ও সংলাপই প্রধান পথ।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হলে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না। বরং এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে, বাড়তে পারে তেলসহ বিভিন্ন জ্বালানিপণ্যের দাম। এ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো জরুরি। শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছেন, ওয়াশিংটন চাইলে শনিবার বা রোববারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালাতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমঝোতার পথেও এগোতে প্রস্তুত বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যারাকের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য ইরানের সরকার পরিবর্তন নয়। বরং হুমকি ও জিম্মি পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে বিশ্বে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এর লক্ষ্য।
গাজা ও ইয়েমেন পরিস্থিতিও আলোচনায়
ইস্তাম্বুলের বৈঠকে ইরান সংকটের পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ, ইয়েমেনের সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংকট বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, পৃথক এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসর ইসরায়েলের দখলদারত্বকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করে। দেশগুলো ফিলিস্তিনে ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয় বন্ধের আহ্বান জানায়।
একই বিবৃতিতে হুতি গোষ্ঠীর সামরিক তৎপরতার নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে তুরস্ক এ বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর বক্তব্যে সামরিক উত্তেজনা কমানো, জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।


