২০২০ সালের নির্বাচন চুরি হয়েছিল, তৃতীয় মেয়াদে লড়ার অধিকার আছে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে তৃতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার রয়েছে বলে আবারও দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির সংবিধানে একজন প্রেসিডেন্টের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ২০২০ সালের নির্বাচনে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছিল—এ যুক্তি তুলে ধরে আবারও নির্বাচনে লড়ার অধিকার দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিউ সিটিতে এক নির্বাচনি সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তা তিনি জানেন না। আইন অনুযায়ী তাঁর আর নির্বাচনে দাঁড়ানোর অনুমতি নেই বলে মনে করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিত নন বলেও মন্তব্য করেন।
এরপরই ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা তাঁর কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল—এমন অভিযোগ পুনরায় তোলেন ট্রাম্প। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, দ্বিতীয়বার তাঁরা তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছিলেন, কারণ তাঁর দাবি অনুযায়ী, তিনি মূলত তিনবারই জয়ী হয়েছেন। এ কারণে আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি সাংবিধানিক বিধিনিষেধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এর আগেও একাধিকবার তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে লড়তে তিনি ‘খুবই পছন্দ করবেন’। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টেক্সাসের এক জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্ভবত তাঁদের আরও একটি মেয়াদ পূর্ণ করা উচিত। একই সঙ্গে এ জন্য নিজের অধিকার থাকার দাবিও করেন তিনি।
গত বছর ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক অনলাইন স্টোরে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা ক্যাপ বিক্রি শুরু হয়। জুলাইয়ে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারেও ওই ক্যাপ পরে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের সহযোগীরা তাঁর তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে লড়ার বক্তব্যকে কৌতুক হিসেবেই দেখানোর চেষ্টা করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন গত বছর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ডেমোক্র্যাটদের খেপানো বা তাঁদের নিয়ে ব্যঙ্গ করতেই ট্রাম্প এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে আনন্দ পান। সংবিধান সংশোধন করে ট্রাম্পকে আবার নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও দেখেন না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের বিরোধীদের আশঙ্কা, বিষয়টি নিয়ে তিনি সত্যিই ভাবতে পারেন। বৃহস্পতিবারের সমাবেশেও ট্রাম্প সংবিধানের বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট বাক্যটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিধানটি এতটাই সংক্ষিপ্ত যে এর ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া বা ফাঁকফোকর খুঁজে বের করার সুযোগ প্রায় নেই।
এদিকে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আসন বাড়াতে সমর্থকদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি তাঁদের এমনভাবে ভোট দিতে বলেছেন, যেন ব্যালটে তাঁর নিজের নামও রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় তাঁর এই কৌশল রিপাবলিকানদের নির্বাচনি সাফল্যে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


