ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার অবস্থানে ফিলিস্তিনি দলগুলো
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেয়েছে বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে। এতে সরকার গঠনের সমীকরণে দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৪টি আসন এবং তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আগ্রহী বিরোধী শিবিরের গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৭টি আসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট, অর্থাৎ প্রায় ৪০ লাখ ব্যালট গণনা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসাবে জানানো হয়। এ পর্যায়ে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর আসনসংখ্যায় বড় পরিবর্তন না এলেও আরব দলগুলোর আসন বেড়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, কোনো জোটই এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের আলোচনা ও সম্ভাব্য জোটের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহুর লিকুদ সর্বোচ্চ আসনে
প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেয়েছে, যা দলটিকে একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ আসনে রেখেছে। তবে আগের নির্বাচনের তুলনায় দলটির সমর্থন কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২০টি আসন। নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নির্ভর করছে অন্যান্য দলের সমর্থন এবং জোট গঠনের আলোচনার ওপর।
নেতানিয়াহুর জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে তাঁর কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের আসন কমে যাওয়া। ইতামার বেন-গভিরের ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে সাতটি আসন এবং বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টি পেয়েছে ছয়টি আসন।
জয়েন্ট লিস্টের আসন প্রায় দ্বিগুণ
এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একাধিক আরব দলের জোট জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১৩টি আসন, যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম পেয়েছে ছয়টি আসন। দুই দল মিলিয়ে তাদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯।
এই ফলের ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরের কয়েকটি দল আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সে কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য কোন দল কার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভোট গণনা ও চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত কোনো জোটের হাতে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন না থাকায় ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও দর-কষাকষির গুরুত্ব বাড়ছে।


