ইউরোপ চাইলে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

ইউরোপ চাইলে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন
৩১ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা রাশিয়ার নেই। তবে ইউরোপ যুদ্ধ শুরু করতে চাইলে মস্কোও লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই বিজয়ী হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের প্রসঙ্গ তুলে পুতিন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে সমর্থন করে রাশিয়া। তবে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে নেওয়া উচিত নয়, যার পরিণতি কারও জন্যই ভালো হবে না। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে পুতিন বলেন, “আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে নিতে পারে। আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে ইউরোপ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা শুরু করে, তাহলে মস্কো এখনই প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে পুতিন আরও বলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ হলে কোনো পক্ষেরই জয়ী হওয়ার সুযোগ থাকবে না।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। তাঁর দাবি, ইউরোপীয় নেতারাই এই ফোনালাপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আলোচনাকে সঠিক পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, গ্রীষ্মে ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, ন্যাটোর দৃঢ়তা যাচাই করতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো দেশে সীমিত স্থল অভিযান অথবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়াতে পারে মস্কো।

তবে ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বললেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে ড্রোন হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড’ তৎপরতার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশ ও ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মস্কো ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।