উপকৃত হবেন আড়াই লাখের বেশি

ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনছে সরকার

জাতীয়
ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনছে সরকার
৫ আগস্ট ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, বৌদ্ধ ধর্মীয় কর্মী, যাজকসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিকে সরকারি মাসিক সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এ তথ্য জানান।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সভায় জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সম্মানি ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম বছরে দেশের মোট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৮ জন কর্মী সম্মানি ভাতা পাবেন। এ ছাড়া ৩ হাজার মন্দিরের ৬ হাজার জন, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহারের ১ হাজার ৫০৪ জন এবং ৩০১টি গির্জার ৬০২ জন কর্মী এ সুবিধার আওতায় আসছেন।

ভাতার হার অনুযায়ী, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজকরা মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাবেন। মুয়াজ্জিন, সেবাইত, বিহার উপাধ্যক্ষ ও সহকারী যাজকদের মাসিক সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে মসজিদের খাদেমরা প্রতি মাসে পাবেন ২ হাজার টাকা।

এ ছাড়া প্রত্যেক উপকারভোগী বছরে ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। উপকারভোগীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সম্মানির অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জানান, এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় কর্মীকে সম্মানি দেওয়া হয়েছিল।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।