২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস উৎপাদন ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নিতে চায় সরকার
ছবি: সংগৃহীত
দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং স্থগিত থাকা আটটি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সরকারের ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বিজিএফসিএল এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নতুন নয়টি কূপ খনন এবং বিদ্যমান ১২টি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক অতিরিক্ত ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রত্যাশা করছে।
বাসসকে আশরাফুল আলম বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজিএফসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা—এই ছয়টি গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে। এসব ক্ষেত্র থেকে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ আসে।
গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নের সম্ভাবনাময় কাঠামো শনাক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন এলাকায় সাইসমিক জরিপও চালাচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক বা ৩ডি সাইসমিক জরিপ চলছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র ও আশপাশের এলাকায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটার রয়েছে।
এ ছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পশ্চিম এবং নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ২ডি ও ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর কূপটির খনন শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৯ জুন শেষ হয়। গতকাল কূপটি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের জন্য উদ্বোধন করা হয়েছে। তিতাস-২৮ কূপ থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বিজিএফসিএলের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমন্বিত খনন চুক্তির আওতায় চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিসিডিসি) কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করে। তিতাস-২৮ কূপটি ৩ হাজার ৬০১ মিটার মাপা গভীরতা (এমডি) এবং ৩ হাজার ৪৭১ মিটার প্রকৃত উল্লম্ব গভীরতা (টিভিডি) পর্যন্ত খনন করা হয়েছে।
এদিকে গ্যাস উৎপাদন আরও বাড়াতে তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ নামে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজও পরিচালনা করছে বিজিএফসিএল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন কূপ খনন, পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার এবং সাইসমিক জরিপের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


