হাইকোর্টে বড় জয়: জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ মামলায় তারেক-জুবাইদা রহমান খালাস
বহুল আলোচিত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক বেঞ্চ আজ বুধবার (২৮ মে) এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। ফলে পূর্বের সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়া হলো।
এর মাধ্যমে ২০২৩ সালে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের দেওয়া ৯ ও ৩ বছরের কারাদণ্ড বাতিল হলো।
মামলার পটভূমি সংক্ষেপে:
-
মামলা দায়ের: ২০০৭ সালে, দুদক কর্তৃক কাফরুল থানায়।
-
অভিযুক্ত: তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান ও তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু।
-
অভিযোগ: অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন।
২০২৩ সালের ২ আগস্ট বিচারিক আদালত তারেক রহমানকে ৯ বছর ও জুবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে আজকের রায়ে সেই রায় বাতিল করে উচ্চ আদালত বলেছে, মামলার উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে অপরাধ প্রমাণ হয়নি।
জুবাইদা রহমানের পক্ষে শুনানিতে থাকা আইনজীবীরা বলেন, যেসব সম্পত্তি মামলার অন্তর্ভুক্ত, তার কোনোটিই অবৈধভাবে অর্জিত নয়। সেনানিবাস ও গুলশানের বাড়ির বরাদ্দ রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধ। এই তথ্য বিবেচনায় নিয়েই হাইকোর্ট রায় দেন।
অন্যদিকে, তারেক রহমান নিজে আপিল না করলেও, একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তার ক্ষেত্রেও খালাস প্রযোজ্য হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।
ডা. জুবাইদা রহমানের পক্ষে আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন,
“এটি শুধু একটি মামলা নয়, এটি ছিল রাজনৈতিকভাবে হয়রানির একটি উদাহরণ। হাইকোর্ট আজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে।”
২০০৮ সালে স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান ডা. জুবাইদা রহমান। ১৭ বছর পর, চলতি বছরের ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন এবং জামিনে থাকাকালেই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
দুদক চাইলে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যেতে পারে। তবে আপাতত উচ্চ আদালতের এই রায় বিএনপি পক্ষের জন্য বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


